সুন্দরবন সংলগ্ন শাকবাড়িয়ায় ৭০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার

‎কয়রা প্রতিনিধি

সুন্দরবন সংলগ্ন শাকবাড়িয়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭০ কেজি তাজা হরিণের মাংস উদ্ধার করেছে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারি ও পাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

‎কাশিয়াবাদ স্টেশন কর্মকর্তা (ডেপুটি রেঞ্জার) মো. নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

‎বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন থেকে হরিণ শিকার করে পাচারের উদ্দেশ্যে লোকালয়ে আনা হচ্ছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনরক্ষীদের দল শাকবাড়িয়া নদীর চরে অবস্থান নেয়।

‎অভিযান সম্পর্কে কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন বলেন, “সুন্দরবন থেকে হরিণ শিকার করে লোকালয়ে নিয়ে আসার পথেই আমরা নদীর চরে অভিযান চালাই। উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারিরা গোলবাগানে নৌকা ও মাংস ফেলে পালিয়ে যায়।”

‎তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ৭০ কেজি হরিণের মাংস, ২টি মাথা, ১টি নৌকা ও শিকারের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। রাত গভীর হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মামলা সম্ভব হয়নি।

‎সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কয়রা ঘুগরাকাটি ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা সুজাউদ্দিন বলেন, “সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং এর বন্যপ্রাণী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। লোকালয়ে পাচারের আগেই বন বিভাগের এই উদ্ধার অভিযান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।”



‎সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আদালতের অনুমতিক্রমে উদ্ধার করা হরিণের মাংস কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করার প্রক্রিয়া চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুন্দরবনসংলগ্ন নদীপথ ও সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোকে কাজে লাগিয়ে একটি সক্রিয় চক্র দীর্ঘদিন ধরে হরিণ শিকার ও মাংস পাচারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বনের দুর্গমতা এবং রাতের আঁধারকে কাজে লাগিয়ে শিকারিরা তাদের অপতৎপরতা চালায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

‎সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত চক্রের মূলহোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন